পানির আয়নায় ও অন্যান্য কবিতা
আ মরি বসন্তে
তুলোর বীজ,
তুলোর বীজ
বালিশ ফেটে
বের হচ্ছ
আ মরি বসন্তে;
না, সন্ত নই,
আমিই তুলা,
আমিই বীজ
বালিশের
খোল থেকে
শিমুল ফুল
শিমুল ফুল
ডাকছে কে?
জ্বরে পুড়ছি
জ্বরে পুড়ছি
ঝাপিয়ে পড়ো,
নিভিয়ে দিতে
আগুনকে
থেকে থেকে
জ্বলছো যে
ফায়ার ব্রিগেড
ডাকবে কে?
তুলোর বীজ,
তুলোর বীজ
বালিশ ফেটে
বের হচ্ছ
আ মরি বসন্তে
আত্মার ডিম
বন্ধু, তোমার জন্য
পাউরুটির টুকরা
কলিজার তাওয়ায়
গরম ক’রে নিয়ে আসছি,
তার ভাঁজে আমার
আত্মা’র ডিম
থাকে থাকে সাজানো
তুমি যখন চিবিয়ে খাবে
আমার আত্মাকে, খুশিতে
চিকচিক করবে তোমার
আহ্লাদে আটখানা চোখ
তোমার পেটের মধ্যে
দশদিন-দশরাত থাকবো
আমি পাউরুটি ও ডিম,
স্বপ্ন দেখবো, আকাশছোঁয়া
ময়দার পাহাড়ে উজ্জ্বল
কমলা রঙের মুরগী
ডিমে তা দিচ্ছে আর তখন
সূর্যের কুসুম ফেটে ছড়িয়ে
পড়েছে আমাদের মুখে
আলোর আঁশে গড়া মুরগীর
পালক থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে
সাত সাতটা রঙ, তার রূপ
থেকে ঝরে পড়ছে নরম
তুলতুলে হলদে বাচ্চারা
একটা মুরগী’র কক কক
শব্দে ঘুম ভাঙলো আমাদের:
বন্ধু, আমার আত্মার ডিম
পাউরুটির ভাঁজে তোমার জন্য
থাকে থাকে সাজানো
মেয়ে
সূর্য থেকে লাফ দিয়ে
নামলো একটা মেয়ে
ডানা ঝাপটায় আর
মাটি থেকে খানিক
উপরে সে ভেসে বেড়ায়
পা তার মাটিতে থাকে না
লাফিয়ে লাফিয়ে চলে
বললাম, মেয়ে, আস্তে,
একটু আস্তে ওড়ো,
এই ধাতব শহরে কর্কশ
বাতাসের ঝাপটায়
তোমার ডানা ছিঁড়ে যাবে যে
তুমি ভাসতে ভাসতে
মেয়ে, দিগবিদিক
জ্ঞানশূন্য মেয়ে,
স্বয়ংক্রিয় জালে
আটকে যাবে,
তখন বেরুবার
আর পথ পাবে না
একটু দেখে-শুনে
লাফ দাও, পা ফেলো
এই মর্ত্যে সাবধানে,
বিঁধবে যে পেরেক
অচেনা শহরের, তীব্র
আলোর ঝলকানিতে
তোমার ডানার আলো
যাবে মিইয়ে, থামো মেয়ে
ল্যান্ড করো স্লো-মোশনে
পার্থিব কামিনী
জগত জোড়া বোন আমার,
ছড়িয়ে আছে এক দিগন্ত
থেকে আরেক দিগন্তে:
ওর জন্য ফুল এনেছি, ফুল
পাথরে বুলিয়ে আঙুল
দু'হাতে ঢেলে দিয়েছেন তিনি,
পার্থিব সে কামিনী
আকাশ দরিয়ার ঝুলন্ত
বাগান থেকে অঞ্জলি ছড়িয়ে
শুকতারার ডাল ঝাঁকিয়ে
ঝরিয়ে সব বিচ্ছুরিত
নক্ষত্রের বাচ্চা, পাতার
কোরকে গুঁজে দিয়েছেন
আম্মা, চিকন সে হাতের শাখায়
ধরে আছেন থোকা থোকা
ছটফট করা সব কুঁড়ি:
আর আমরাই সেই
ভাই-বোন, উদরে সাজিয়েছেন
ঠিকরানো যতো নক্ষত্রের ঝাড়
আহা, সারা দুনিয়ার সে সুবাস
টেনে নিয়ে বুকে, আমিও হলাম
বোনের সহোদর, ঘুমন্ত এক কলি
কলিজার টবে রেখেছি রোদের
আঁচে গড়া তার পাপড়ি
ফুল এনেছি, জগত জোড়া
বোনের জন্য ফুল এনেছি, ফুল
দু’হাতে ঢেলে দিয়েছেন তিনি,
পার্থিব সে কমনীয় কামিনী
পানির আয়নায়
একটা সুড়ঙ্গে ঢুকেছি আব্বা;
একবার ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ
আরেকবার বৃত্তাকার, কোনোটা
ইউ, আর ক-এর মতো আটকানো
গোলকধাঁধা'র পথে ঘুরে ঘুরে
হঠাৎ পেলাম নিরাকার এক ঘর ;
আর আপনার সারানো সেই কল
থেকে চুঁইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা
পানির শব্দ সম্মোহনের মতো
আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, এই
দুনিয়ার চেয়ে বড় আছে কোনো
গোসলের ঘর, কোথায় তার উৎস?
আপনার অন্ধকার ঘরের হৃদপিণ্ড
থেকে যে কানেকশন, আজ সেই
গলিঘুচি'র ম্যাপ খুব প্রয়োজন:
এবার একটা দিক-দর্শন এ্যাপ
নামিয়ে নিয়েছি, আর আছে
কাঁঠালের ডাল দিয়ে বানানো স্কেল;
সব মাপজোক যদি ঠিক থাকে,
আপনার শিয়রে লাগানো
কামিনী'র ঝাড়ে যদি কুচিকুচি
তারাগুলো আকাশগঙা থেকে
নেমে এসে ফুলগুলোকে চুমু খায়,
তখন যে ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়বে,
তার আচ্ছনতায় যদি পর্দার ওপারে
যেতে পারি, তবে আপনার প্রিয়
সিগারেট পৌঁছে দেবো, পৌঁছে
দেবো পাটের আঁশে বোনা ফিনফিনে
নীল লুঙ্গি আর ডাবের সরের
তৈরি হিম-শীতল গেঞ্জি, আব্বা
কল থেকে ঝরে পড়া শান্তি'র পানি
ধীরে ধীরে নিভিয়ে দিবে এতো
বছরের প্রজ্জ্বলিত এই হুতাশন
হাতের আঁজলায় জমানো পানি,
একবার উপচে পড়ছে,
আবার জমা হচ্ছে, পানির
আয়নায় কাঁপা কাঁপা আপনাকে
দেখলাম দূর থেকে একবার
ধন্যবাদ হোসেন মোতাহার ❤️
Ahmed Nakib Pallab
জুলাই ০৫, ২০২৬ ০২:৩০



নক্ষত্রের বাচ্চারা কী তুলতুলে পায়ে নেমে আসছেন, আহা! ডিভাইনলি, ইনডিড। ♥
হোসেন মোতাহার
জুন ১২, ২০২৬ ২৩:২৩