নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-

 

দুই বিরিয়ানি পিঠা

চোখ বন্ধ করলে
স্মৃতির পর্দায় দুলে ওঠে কলাবেণী শৈশব 
রিলস হয়ে ভাসে নবীপুর গ্রাম
টাইমফুল ফোটা সকালে 
বারান্দার থালাভর্তি কাই চলে যায় হাতে হাতে
আশপাশের ঝি-ঝিয়ারি সবাই একসঙ্গে মথে 
মোটা আস্তরণের রুটিতে
যত্ন করে ফোটায় খেজুরের কাটা কিংবা মোটা ধাঁচের সুঁই
এরপর এলেবেলে সংগীত, ফিসফাস, হাহা-হিহি
হাতের সুকৌশলে হয়ে যায় নন্দনিক নকশা 
এরপর ডুবো তেলে স্নান 
গুড়ের সিরায় মাখামাখি 
তত্ত্বের ডালা সাজে তাতে
কাঁধে চড়ে যায় বেয়াইন বাড়ি...

দুই বিরিয়ানি পিঠা
এভাবেই যুগে যুগে বয়ে বেড়ায় সুখস্মৃতি।

 

বৈশাখ

মেঘকে চোখ রাঙিয়ে জেগে জাগে কমলা রঙের সূর্য
রমনার হাওয়ায় হাওয়ায় বাজে গান।
কলাবেণী মন ছুটে যায় তালপাতা বাঁশির শৈশবে
আহা, শৈশব। বাবার হাত ধরে মেলায় যাওয়া!
ঢোল, একতারা, বাউল গান।  
লাল টিপ, চুড়ি, আলতা। 
খই, মুড়ি, বাতাসা—কী স্বাদ, কী স্বাদ! 

উঠোনের রোদ গায়ে মাখে পাকা ধান
চৈত্রের খরা বুকে নিয়ে বিলি কাটে- 
শুকনো বিলের মাছেরা।
লাল মরিচের ঝাঁঝের মতো সূর্য 
আলপথে লেখে বৈশাখী তেজ। 

নগরে আল্পনা, পেঁচা, মুখোশ আর নান্দনিক পাখা 
ভর্তা, পান্তা আর ইলিশের ঘ্রাণে আমাদের বৈশাখ আঁকা।

 

কলহাস্যে ভাসে দূরের মেঘেরা

তারপর?
তারপর আমাদের পথ বেঁকে গেছে সর্পিণীর মতো
পিষে গেছে বুকের খামে যত্নে থাকা লাল কৃষ্ণচূড়া
যেতে যেতে বহুদূর গিয়েছি, পাড়ি দিয়েছি দীর্ঘ পথ
হন্যে হয়ে তোমায় খুঁজেছি, চোখে চোখে দেখেছি তোমার অবয়ব
বহুদিন পর, বহু দীর্ঘশ্বাসের পর জানলাম আমার খুব কাছেই 
তোমার ছুটে চলা, পদচারণা
আমি অবাক হয়ে পাশ ফিরতেই দেখলাম
কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে তুমি আছো
আর আমি ঠিক তোমার পাশে। 
আমরা দুজনে দুজনার পাশে, অথচ আমাদের শরীরে শতাব্দীর অন্ধকার। 
ম্লান হয়ে যাওয়া শুকতারা, রাতে উঁকি দেয়।
কলহাস্যে ভেসে যায় দূরের মেঘেরা। টের পাই। 
হয়তো তুমিও পাও। কিন্তু হাতে হাত রেখে বলা হয় না। 
বলা হয় না, তুমিহীন আমার বেঁচে থাকা মৃত্যুরই সমান।

 

নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস

একটা নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস 
মাঠ পেরিয়ে ঘাট পেরিয়ে ঠিক তোমার দিকে যাচ্ছে।

 

বৃত্তাকার ঘোর

বৃত্তাকার ঘোর
লাল-নীল-হলুদ-ধোঁয়াশা
প্রেম-কাম-লোভ-হিংসা 
তুমি হেঁটে যাচ্ছো অবিরাম।
চোখে উচ্চবিলাসী জ্বর
তুমি কাঁপছো, পাওয়ার জন্য 
ছুটে চলছো, দৌড়াচ্ছ
পিছু ফিরবার সময় নেই যেন
এদিকে একটা হৃদয় জপসে তোমাকে
তার সঙ্গে গোধূলী বেলায় মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি
গোধূলির পর গোধূলি চলে গেল
শহরের দেয়ালে দেয়ালে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি।
অথচ তুমি সেই চিরচেনা ঘোরে
বৃত্তাকার জলের মতো টলছো 
টাকা-কাম-লোভ-নারী
ধোঁয়াশা-হলুদ-নীল-লাল
তুমি আর খুঁজে পাচ্ছো না তাকে
যাকে ফেলে গেছ কোনো এক জমাটবদ্ধ অন্ধকারে। 

তোমার নাম ঠোঁটে নিয়ে মরে গেছে যে গোলাপ
সে ফুটে আছে গেরস্ত বাড়ির শৌখিন টবে।