রিহ্যাবে ১০টা কবিতা

অ+ অ-


তিব্বতী ইয়াকে

সারডায় ইস্কাটনের চিপা গলিতে
ইয়াকের পিঠের লোম ধরে ঝুলছিল 
এক সুপারইয়াক। ডিটক্স টুরে।

সেই ঝুলে থাকা পাহাড়ি খুড়ে খটখট
একতলা দু’তলা বাথরুমের লাল কপাট 
হাতড়াতে হাতড়াতে তার 
কনফিউজড দিনগুলির ট্যাপে 
অবিরল নেমে যাচ্ছিল তরল ও ঘোলা মর্বিড,
চোখে ছিল সুরমা নাকি নেপালি রাগের পাহাড়ি মূর্ছনা!

হাফবিল্ডিংয়ের টিনের চালে 
লিচুর পাতায় বখাটে বাদুর 
কার জন্য মাদুর গোছাচ্ছো 
বলো সমুদ্ধা। বাসি ফল 
হাতে নিয়ে কর্ণেলের বাচ্চাটা শুধু মায়ের জন্য কান্দে!

দেহ কেন শুধু মাত্রাতিরিক্ত দুধ চা চায়? সাথে ঘন চিনি।
ক্যান্টনমেন্টে কিচেনে কী রান্না হচ্ছে আজ? 
আর এখানে রিহ্যাবের খাবারে মিলিটারি বদহজম,
বারবার কমোডে ব্যর্থ ক্যু’দেতা।
ফ্ল্যাসে পানি নাই, বদনা হুজুরে
দেহাতীত অজীর্ণতা পরিষ্কার হবে না 
গ্লানি থাকবে!

শুধু শুধু এ রিহ্যাবে মাথা কুটে মরি
অসীম যন্ত্রণা দেহের কোষে কোষে, 
ডিটক্সের তীব্র খিচুনী!

 

লিচুপাতা

লিচুপাতা লিচুপাতা তোমার জন্য মনটা কেমন করে ও ও
উ উ ফোঁপায় জানটা যেদিকে দুচোখ যায় শুধু দেখি
ডিটক্স ঘরের আধবোঁচা লজ্জিত খাট।

ঘুমের আরকে ভিজায়ে রাখা 
সারি সারি বেরাক্রান্ত দেহ
জানালা কম, দরজাটা লাল। 
কই হে চাবি? 
ড্রাগের লক্ষ লক্ষ জিঞ্জিরে বান্ধা পা
কারা সেখানে লাগায় তালা 
কারা তালাদের লাগায় বিজনে?

কর্নেলের বখাটে পুত্রের 
বন্ধুরা নাই এ ভবনে
তারা গেছে সুদূরে শিকারে 
বালতি ভরে বমি করতে
নাক থেকে ঝরছে তাদের
গুচ্ছগুচ্ছ চাবি অকেজো।

তালাগুলি ঝনঝন, 
বিছানায় কেন এতো বিরঞ্জন
সহমরণে রমনে বমনে 
মৃত দিনগুলির ছানাপোনাদের ছড়া
করছে গিদগিদ?

তালাগুলি ঘুমায় কেন সারাদিন 
পাখার অভাবে বিছানা কাৎরায়?
হৃদয় মোচরায় ঘামে
ফোমের গদি নাই পাতা
খালি স্প্রিং কুটকুটায়।

আরে বাপু শুয়ে পড় ওইখানে
মুসুর ডাল রান্ধিতে আছে পাশের বাড়িতে!

অতিকায় মাঠে যেন তারকারাজি ঝিকিমিকি
উপত্যকা থেকে ফলের বাগান ডাকিতেছে
বনে বনে ড্রাগের ফুল
ফোটাবার কাজ নিয়ে মৌমাছিরা 
চাষীর চাকরি নিয়েছে যে সেথা
কি মধুর আশায়? নাকি পুলিশের চাকরি ভাল ছিল, 
নাকি মন্ত্রী’র এপিএসের?

আমরা ফাটায়েছি যারা রাজপথ, 
আগলি পৌষের সন্ধ্যায় ঝুপড়িতে বসে
সমাজের নিম্নভূমিতে মাটির সাথে লুডু খেলিয়াছি
আমাদের সান্ধিতে হৈবে কি এবার সংসারে?

কোমরে হাফপ্যান্ট বান্ধো যুবক
রিহ্যাবে রিপেয়ার করো নিজের দেহরে!
তোমারে শুধিতে হৈবে সমাজের ঋণ
ধিকি ধিকি গরমের কালে।

 

নার্স বলল

নার্স বললো, এখনো পচিশটা বাকি!
অথচ টেবলেটের গন্ধে শরীর গুলাচ্ছে।

এবার সিস্টার ছড়া শোনাবে:
গণপ্রেসার মাপা শেষে বাকিরা বসো 
তোমাদের সবার হাতেই হিন্দি রিমোট দেয়া হবে।
ঘাস থেকে উঠে আসছে স্বপ্ন বাহাদুর
কিছুদিনের মধ্যেই 
আরো নতুন স্বপ্নে ঢুকতে পারবে।

ফুলের পাপড়ি খাও এবার
গোলাপী, হলুদ, নীল ট্যাবলেটে
খুঁজে দেখো চাপ চাপ জাতিবাদী গান
মাথার উপ্রে তালা বান্ধা 
টিভিতে নাচিতেছে হিরোয়িন।

হিরোয়িন? নাকি দেশে র‍্যাবের সাজানো মৃত্যুর গণবিছানা?
যে যেদিকে পারে সেখানেই একটা করে মেরে রাখিতেছে।
বাথরুমে কোনোটাবা ফেলছে, কেউ লাগাচ্ছে পুকুর পাড়ে! 
কেউ বা বের হয়ে আসছে অথবা নিজে নিজেই
বাইরে দাঁড়ায়ে জোরে জোরে শব্দ করছে
আর কেউ খুব সক্রিয় ভাবে। 

৫ থেকে ৯ বার সুট করার পর
দেখছে বগলের নিচে তখনো তাপ আছে কিনা।

কেউবা শিশুন্যাংটা অনেকক্ষণ নাচানাচি করে
শাওয়ার ছাড়তিছে বালতিতে মগ
ব্যবহার করে ক্লান্ত
ছিটকিনি ঝুররঝুরর
জরুরী অবস্থার কনফিউসড দিনগুলিতে 
লাগানো দরজা খুলতেও ইচ্ছা করে না।

কোনো রকমে দেয়াল ধরে
দাঁড়ানোর শক্তি দাও প্রভু,
হে দোযখ হে বিহ্বলতা!

হামাগুড়ি হামাগুড়ি
চলো হাঁটা শুরু করি 
শৈশবে মায়ের কোল থেকে নেমে
আবার রিহ্যাবের আরেকটা কনফিউজড দিনে।

 

রিহ্যাবের ডায়েরি সমগ্র

আলো জ্বালবার আগেই রাত
আল্লা কেন তুমি নিজের দিনটারে সন্ধ্যা করিলে না
অথচ সুটকেসের শীতের কাপড়গুলি
একদম গোছানো বেদনার বাড়ি থেকে
এবার বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে ফিরেছে শিশুরা।

আলু ভর্তা তোমারে দিলাম
ঘুরে আসার কথা ছিল ডুলাহাজরা
কিন্তু তুমি নাকি এখন করমজলে,
কয়েক হাত দূরে ফ্যান্টাসির কুমির ছানা
আকাশ দেখা যাচ্ছে না নোনা পানিতে
পিনিকের সন্ত্রাসী আলো আসে।

 

(ডায়েরি ১৯৮৯)
পাহাড় থেকে চালাতে চালাতে তোমার গাড়ি
টক্কর লাগলো লাবণ্য বিবির গাড়িতে 
শিলংয়ের ব্যাঁকা পথে
এখন ঢাকা গিয়ে বিসিএসে
ছাগল হয়ে বসবে নাকি?

তোমার কথার প্যাঁচে তখন ঝরতো কমল হীরা 
তবুও এসিল্যান্ড হতে তো ইচ্ছা ছিল না।
একজনের সাথে দেখা হয়েছিল বুঝি
কিন্তু তারে পারো নাই ফিরাতে!
সে আজ বড় হয়ে শতকুটি টাকা খেকো 
এডিশনাল সেক্রেটারি হয়েছিল ঠিকই
সরকারের জনপ্রশাসনের ঘরে।

 

(ডায়েরি ১৯৯২)

চাটগাঁ না চিটাগাং জপতে জপতে
দেখি আমাদের যৌথলক্ষ্য ম্লান হয়ে গেল।

কোথাও যাবার কথাও হয় না
শুধু শুধু সার্সন রোডে বৌদ্ধবিহারের পাদদেশে
পরীর পাহাড় থেকে খরগোস নেমে এসে
বিয়ার হাতে দেয় আমি তা ফিরায়ে দিলাম খুলশিতে
তুমি বড় হয়েছো কিন্তু তোমার বুক জেগে ওঠে নাই
শুধু চুমু খেতে দিলে।

নগরটা ছিলো সরু লম্বা তাতে
একদিকে মাটির টিলাপাহাড়
পাশে পুরুষনদ আর একটা সমুদ্রতট
কোন এক পীরের পায়ের ছাপে
মুখটা মিশে আছে
সমগ্র শহরের লাইন ম্যাপে।

আল্লা কেন যে বানালো না তোমারে 
সেই রকম করে
যা হাতের মুঠায় নিয়ে
রস হয়ে বাতাসে উড়ে যায়
ড্রাগের চেয়েও বেশি রংধনু ভাসে 
প্রাণের বুদবুদে পিনিক পিনিক!

হালিশহরে নুনের গন্ধ সিমেট্রি রোডে তুমি। 
অশেষ করেছি একদিন তোমারে খুঁজতে গিয়ে
স্টেশনরোডে মেন্স লিকারস্টোরে।
হামাগুড়ি মাথার উপরে 
ফাঁকফোকর না ব‌্যাজস্তুতি 
অগ্রভাগে পলোগ্রাউন্ড পাশে শায়িত দু’তলা সড়ক 
শানে বান্ধা প্রজাদের বাড়ি 
মাইক্রো থেকে নামায়ে দিলে 
একমুঠো ঝিঁঝিঁ শিকার করে ফিরেছো ডিসি হিলে। 

কই হে লালকাঁকড়ার ঝোল 
একপাত্র হবে নাকি ভাতের চোয়ানি
হিল পাদদেশে ধাঙর কলোনিতে 
লালদীঘি থেকে গোলদীঘি সিডিএর কোলে 
অপরূপ ফড়িং বসে তোমার হ‌্যান্ডব‌্যাগে।

বিচ্ছেদের শহর ভুলে যাবার জন‌্য 
রেলগোডাউনের চিপায় ছয়ইঞ্চি সিরাপ পার্টি
জটিল জটিলতা পুরাতন বিজয়ের উপর বর্তমান 
ভুলে থাকার অঙ্গীকার ইউনিকোডে। 

আমার দ্বিধার কাছে ভর করেছিল বেদনার্ত কিয়ের্কেগার্ড 
থরথর বিরহে কেঁপে বোস্তামীর কাছিমগালা 
বয়সের ভার বহন করে
বেঁচে থাকে পুরাতন সার্কিটহাউজ ডাকবাংলো
জিয়াকে মরে যেতে হয় কোন মিলন ব‌্যতিরেকে!

পতেঙ্গার অর্গানিক সীবিচ গেছে সিমেন্টের ব্লকে
তোমার হৃদপিণ্ডে প্রাকৃতিক ঢেউ আর অবশেষ নাই
আয়নায় যারে দেখিয়াছিলাম চিটাগাং
তারো চেয়ে গভীরে রয়েছো তুমি, মার্কারি
এ জীবনে কি আর তোমারে ধরিতে পারি
আজ এ রিহ্যাবের ঘরে?

 

রিহ্যাবে ঈদ

নামিবিয়ার মানুষ জানে 
জিরাফের গলা আকাশ থেকে বৃষ্টি পেড়ে আনে 
আমার জন‌্য কে আনবে ঈদ?

আইনো গো কিছু রান্না করা বিফ 
ঝালঝাল করে
সাথে কিছু আলুগোডা ঘনঝোল 
রিহ‌্যাবে প্রতিদিন ভর্তা আর ডাইল 
আইসোলেশন উইথড্রয়াল ভাল লাগে না!

হাড্ডি মাংশ বিফে ভরায়ে দাও
কুরবানির ঈদে দুপুরের খানা
নিজেরে নিবৃত্ত করি সাবস্টেন্স থেকে
ডানা দাও উড়ে যাই প্রভু!

আমার বন্ধুরা এতই মাশুক
ড্রাগের তরে তারা জীবন দিতে পারে 
সারাদিন গণকটুলিতে দাঁড়ায়া
ঘন ঘোর বর্ষায় কয়েক মাইল পচা পানি ঠেইলা
যাইতে পারে চৌদ্দটুলি সুইপার পাড়ায়
ধাক্কাধাক্কি করে কারো কনুয়ের গুতায়
সামনের দুইটা দাঁত হারাইয়া
কয়েক গ্রাম ব্রাউন সুগারের লাগি 
পুলিশেরে ভাওতা দিয়া
সান্ধাইয়া যাইতে পারে চিপা গলি দিয়া!

তাদের জন্য কিছু বিফ আনো
এই ঈদের দিন স্পেশাল কিছু হোক!
কিছু স্পিরিচুয়াল দেবদূতের মাংশ খেয়ে
ওরা পৌঁছায়া যাক জোনাকিদের দেশে!

 

কয়েকটা সিগারেট চাই

কয়েকটা সিগারেট দিও 
ফ্যামিলি ডেতে দেখা হলে
লুকায়ে রেখে দিবো আমার পকেটে।

গত সপ্তাহে বরাদ্দ সব
দেখতে সাধু কিন্তু অতিশয় পাজি 
চুরি করে নিয়ে গেছে বান্না
এখন গরিব আমি
মন ভরে টানতে পারি না।

জানোই তো পূরানো স্মৃতি বলতে
এই নির্দোষ অভ্যাসই আছে
এই রিহ্যাবে।

পারিনা ছাড়তে
বুক ভরা ধূঁয়া টানার স্মৃতি!
আমারে ইশারা দেয় ছোটবেলা,
আমারে নিয়ে যায় স্কুলের পিছনে।
নিয়ে যায় গোপনের দিকে
প্রথম ছেলেবেলার কাছে।

 

রিহ্যাবে বৃষ্টি

ঝড়ের দুপুরে 
দুইটা কুকুরে
নামছে পুকুরে 
শুধুই বকতেছে 
ঝগড়া খেকতেছে 
কিন্তু কাউরে কেউ মারছে না

বৃষ্টি পরে টাপুরটুপুর গতকালের ছন্দে 
বৃষ্টি পরে শীতের দিনে অপরিচিত ধন্দে

মুমূর্ষরে স‌্যালাইন দিল
টুকুরটাকুর বৃষ্টি দিল কে 
যে ডুবেছে একতলাতে
কুকুর ধরে
তারে বলো পানিতে সাঁতরাতে  

গভীর নিম্নচাপে 
দিনের ছন্দে বাজালো বারোটা
এখন দিবে ভিজা টিসার্ট 
থ্রিকোয়াট বারান্দায় নেড়ে।

বৃষ্টি পরে টাপুর-ট‌ুপুর ঘরে তুমি নাই  
আজ আর যাব না খারাপ পাড়ায়
মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার 
শুকনি বুড়ির একপাতা ব্রাউনে।

স্পটে দিল মারতে বান্দিলা
ডোপামিনের ডিটক্সে 
এখন কেন রিহ্যাবে আসিয়া কান্দিলা?

ক্রেভিং এলে নুইয়া পড়ো
পরীতে এসে পোন্দায়ে নিয়ে যায় -
নিউমার্কেট, কাঁটাবন, গোলাপশাহ ফুলবাড়িয়া তালগাছ,
নাকি রেল হাসপাতাল, আনন্দবাজার?
আগারগাও বিম্পিবস্তি নাকি তেজগাঁর ময়লা স্টেশন?
নাকি জহুরি মহল্লা, কাটাসুর, বাঁশবাড়ি, চানমিয়া
নাকি মিরপুর ১০, টিটিপাড়া কমলাপুর, শনিরআখড়া গোলাপবাগ?
নাকি গরুরহাট ছাড়ায়ে, ব্রিজ পেরোয়ে আমিনবাজার পাইকারি ডিপো? 

বিষ্টি পড়ে মনে পড়ে
সেই সে দিনগুলি
ঢাকা শহর বদলে গেছে
নতুন ম্যাপে ডাকছে সকল
পরীর বাচ্চাগুলি!

 

ইনহাউস মেট

ইনহাউসে আমাদের বেশ ক’জন মেট। সবাই আপাতত আশ্রিত প্রভুর কোলে। হে প্রভু আমরা সরণাগত তোমার। জাগতিক ঝগড়া ফ্যাসাদ, টাকাচুরি বা জমির লোভ নয় অন্য এক বিতারণে কিছুদিন অমুক্ত হয়ে সাবসটেন্স থেকে অনাসক্ত হতে চাই। আমাদের দোয়া করো প্রভু!

সেন্ট্রালরোডের ফটোবিক্ষিপ্ত প্রিন্স। কুমিল্লার নবিশ এমবিএ পাভেল। বাপ্পির ডানহাতে প্লাস্টার, দেয় একহাতে তালি। গল্প লেখে শিমুল পড়তেছিল জাবিতে। গড়াই নদীর পাড় থেকে গাঞ্জু রাজিব-১ আসিছে। নারায়নগঞ্জের রাজিব-২ সাইকো, বিহেভ ভালো না, তবে নরসিংদির বিবাহিত রাজিব-৩ ভদ্র অতিশয় যদিও মিথ্যায় পারদর্শী। ২য় বার রিহ্যাবে আগত শওকত বলে: সে ছিল মেডিক্যাল ছাত্র তবে কারো বিশ্বাস হয় না। ডিবির পোলা সন্দেহজনক হাসানও স্লিপ করিয়াছে। পুরান ঢাকায় প্যাডেস্ট্রান ডিল করত রুবেল। মো:পুরের কমিশনারের ভাই অপু নাকি জাপানে ছিল ১৪ বছর, দেশে ফিরে নাকি আইস বিক্রি করে। আজাদ কুমিল্লা থেকে আসিছে চুরি করে পারফিউম লাগায়। রুবেন্স টাঙ্গাইলের সারাদিন চাপা দেয়। খোকনের বাড়ি বরিশাল সেও নিরীহ গাঞ্জু। আরেক গাঞ্জু তেজতুরী বাজারের বয়স্ক আজিজুল, ফার্মগেট থেকে চক দিয়ে আবোল-তাবোল লিখতে লিখতে দেয়াল ভরায়ে ফেলেছে মানিকমিয়ার দক্ষিণ দিকের দেয়াল, লোকেরা সেটারে রহস্যময় দেয়াল লিখন বলে ভাবে। ঝাকড়া কদমচুলের জোজোর বয়স মাত্র ২২, ইনহাউসে সবচেয়ে ছোট। টিটু পাল চাকরি করত এঞ্জিওতে ক্ষুদ্রঋণে। জয়পুরহাটের ছাত্র নারায়ন বনিক। এক প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ভাইগ্না জায়ামী রহস্যময় বান্দা, ঢাকার সব রিহ্যাবে থেকে সে দাদা ঝানু হয়ে এসেছে—অনেকগুলি রিহ্যাব নাকি তার হাতেই জন্ম, বারবার স্লিপ করে সে এখন বিশ্বরিহাবী। গল্পলেখক বান্না চাপ সইতে না পেরে সাংবাদিক হবে বলে এখানে উদিত।

আরিফও স্লিপ করে আসছে, সে ছিল বাইক ক্রেজি। মিতুল কিছুদিন অস্ট্রেলিয়ায় পড়েছিল চাপা মারে মাত্র ২ দিন ড্রাগ নিছে বলে। স্টাইলিশ হেয়ারকাট নিয়ে স্লিপ করে আসছে রাতুল, পুশ ড্রাগ নিত। চুয়াডাঙার রিপন বয়স মাত্র ২৪, চারুকলার ছাত্র, আঁকে আর কবিতা লেখে। মাহফুজ নাকি এক ঘুষ চিফ ইঞ্জিনিয়ারের পোলা। মালেক—টিপিক্যাল গাঞ্জু এখনো হাত মুঠা করে সিগারেট টানে। রাব্বি চাপলিস ব্যাংকের ভিপির পোলা। ওলি স্ট্যানচাটে নাকি ক্যাশে ছিল, চাকরি খেয়েছে ড্রাগে। মোশাররফ কলাবাগানের ড্রাগ ডিলার। আমি কবি ও গল্প লিখি লালমাটিয়ায় বাসা, সকালবেলা ড্রাগের পক্ষে শেয়ারিং করি বলে সবাই শুনতে চায়। রিফাত হাজী বাল্লু রোডের মাস্তান, ও আবার এন্টি ড্রাগ ফতোয়াজীবী।

সবাই ভান ধরে আছে ভাল হবার কিন্তু ব্যবহারে মিঠা স্বভাবী। কিন্তু কার মনে কি আমরা জানি না। তবু সারাদিন ভলান্টিয়ারিং তিতাস, কুশল, মিজান, সুমন আরো দুইচারিজন। সেন্টার প্রধান—তরুন। পরিচালক—দিপু, ইকবাল, ইফতিখারগণ চেষ্টা করে যান ঐকান্তিক মাস শেষে বেশ মোটা পরিমাণ টাকার বিনিময়ে। মোঃপুর ইকবাল রোডে, ভদ্র পরিবেশে। এখানে শব্দ করা মানা। রাত দশটায় নিশুতি নিমাই সাইলেন্স ফিসফিস বালিশে বালিশে। এখানে দা, বটি বা যে কোন ধারালো বস্তু ও ড্রাগ ভীষণ নিষিদ্ধ!

 

রিহ‌্যাবের বারান্দায়

কিছু না বলে তোমারে বিদায় দিলাম 
এখন ভাবি কিভাবে এটা করতে পারলাম! 
বিদায় দিয়ে এলাম একেবারে
অফিসিয়ালি আমার জীবন থেকে 
বিদায় জানানো হয়েছে তোমারে।

তোমার আর কোন জায়গা নাই আমার ঘরে।
তোমার কোন স্থান নাই আমার মনে।

তোমারে স্মরণ করি জ্যামে আটকে গেলে
ভিতরে বাহিরে অন্তরে অনলে পলিটিকাল
লোহা যেভাবে সোনা হয় অপার্থিব স্পর্শে
তোমার অবর্তমানে আমার তেমন পরিবর্তন হয়েছে।

আজকের সেই বদলানো মানুষটা
আর কোনদিন যাবে না 
অবদলানোর কাছে!

অনেকবার তোমার বেডরুম পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এসেছে
তার হৃদয় তাতে এতটুকুও কাঁপে নাই
করিডোরে থুথুর ছাপ রেখে ফিরে আসছে!
তার সেই পুরুষ কান্নার দাগ ছড়ায়ে আছে সর্বত্র।

একা একা কানতেছিল সাথে নাই কোন সাবস্টেন্স
নাই কোন আসক্ত হবার ভয়
তবু কেঁপে কেঁপে উঠতেছিল সে নিঃশব্দে।

একটা একা জীবনে নিঃসঙ্গ হয়ে গেছে।
ছোট্ট একটু কল্পনার জমিতে আজ
কিছু বুনো লতা, কাঁটা ঘাস, নীল বর্ণের ফুল চাষ করে। 
প্রতিদিন তাতে একটু একটু করে সে
পানি সিঞ্চন করে।