স্বরে অ স্বরে আ হ্রস্ব ই ও অন্যান্য কবিতা

অ+ অ-


স্বরে অ স্বরে আ হ্রস্ব ই

বোবা বর্ণমালা ছড়ায়ে তোমারে যদি বুঝাইতে চাই
দরিয়ার মাঝে কোন দ্বীপ, রইদের ঝিকমিক
অথবা শুধু আমার অবস্থাও যদি বলি,
ফাআআ!  তুমি কি কিছু বুঝলা?
বুঝায়ে বলতে গেলে তো 
আরো অর্থহীনতার দিকে যাইতে হবে
আরো দৃশ্যের বাইরে
আরো শব্দহীনতায়
আরো সীমানা ছাড়ায়ে 
অসীম খিরাক্ষেতে বসে
কথার যবর জের পেশ

যেখানে কবরের শান্তি
যেখানে ঘাসের নিরবতা
যেখানে কথারা আপনি ছড়ায়ে থাকে
কথাদের জবান শব্দে আটকায় ন থাকে
তোমারে শিখাবো মনে করো, ফাআআ
এবার কি কিছু বুঝলা?

 

ঢালাইয়ের তলে

অনেকদিন ধরে চুপ থাকতেছি
মনে হয়, মুখে বাসি ভাতের গন্ধ
গরমে এত গলা গলছে রে ভাত
কচলায়ে যেই সুরুৎ করে টান মারবা
নেশা হয়ে যাবে

নেশায় ঢুলু ঢুলু এমনই চোখ আমার
খালি ঘুম আসে
ঘুমে এমন তলায়ে থাকি
মাটির উপরে যেমন ঢালাই দিলে আর
ঘাসও গজায় না কোথাও
আমার উপরে নি এমন ঢালাই দিলা
মাথায় আর আসে না কিছুই

দুনিয়ার সমস্ত ঢালাই যদি
আমি পারতাম সরায়ে দিতে
কবিতারা সুন্দর আপনি গজাইতো রে

 

জষ্টিমধু

সকাল সকাল একটা কচুরে কুচিকুচি করলাম
তারপর ভাঁপে দিয়ে সব কষ ফেলে
এখন চিংড়ি দিয়ে ভুনা করব
আমারেও এমন কুচি করো
তারপর ভাঁপে দিয়ে সব কুড়কুড়ানি 
ছেঁকে টেকে ভুনা করে ফেলো

এই বিষ্টি ঝরঝর দিনে
বেরসিক মনে কী আর করবা 
চানাচুর বেশি করে দিয়ে ঝালমুড়ি খাও 

বারান্দার অপজিটে কেন যে উঁচা দেয়াল 
দুদিন আগেও বস্তির ছেলেরা মাঠে খেলছে
মাঠে দাঁড়ায়েই ঢিল মারছে আমগাছে
সেই কচি কচি আমের ভর্তা খাইতে না পেরে
কী আর করব, আমিও ঝালমুড়ি খাইছি
কাঁচামরিচের একেকটা কুচি মুখে নিয়ে
ঝালের চোটে তোমার বেরসিকতার গুষ্টি মারছি

তারপরও তো এই বিষ্টি ঝরঝর দিনে
একটা সোহাগি হাওয়া বইতে আছে 
আদিম সুবাসে মিঠা স্বরের কলকল 
গলার ভিতরে জমাইতে আছে মধু

তুমি কি কিছু টের পাও না?
হেই, ঠোঁট কামড়ায়ে থাকা
মিষ্টি হাসির গোলাপকাঁটা!

 

পিলপিল পিলপিল

দুপুরে হল্লা করা পোলাপাইনের লগে লগে ঘুরি
চরের ভেড়ার মতন, বিছরায়ে বেড়াই ঘাস
আর সব ডুবে গেলে বিষ্টির দিনে
তোমার নিরবতার গলিতে যে ভাতঘুম
তার ভিতরে পিঁপড়ার সারি হয়ে
পিলপিল পিলপিল করে
বিলবিলাই ফুলের কানে।
কখনো হেলেদুলে এদিক ওদিক
বাতাস খাই পাতার দলে।

ভোরে ফোটা রক্তজবার পাপড়ি যেমন দুপুরে
ঝিমায়ে পড়ে, দরজা লাগায়
তোমার অফিসফেরত শরীরও এমন
আমি জানলা বেয়ে রইদের আলো
তোমার ঘরের পর্দা দেখি আর ঘুলঘুলি
হয়ত হঠাৎ বারান্দায় আসা বুলবুলি
তোমার ফুলের গাছে ফল খুঁজি
থাকতো যদি পাকনা আতা
আলতো করি খাইতাম ঠোঁটে তুলি

 

টক্কিটক্কি

তোমারে ভাষা শিখাতে যাই
শিখামু যত ইতিউতি যতি
বর্ণের লেজ কান ধরি শুনামু বয়ান
মাটির যত টান 
ভূগোল আর বিভেদ রেখা ছুঁই
ঘুরামু মিথ থেকে মিথে
টক্কিটক্কি তুমি পার হবা গাঙ
হাতে লই ছোট্ট খড়িমাটি 


কপাল

জুমার পরে সেদিন 
ঘরের কেউই ঘরে ছিল না। 
আমিও গেছিলাম। আর তুমিও।
ইন্টারনেট বন্ধ ছিল।
ছাত্ররা মসজিদ থেকেই মাইকে ডাকতেছিল,
‘আপনারা সবাই আসেন। আমাদের পাশে দাঁড়ান।’
আমরা দাঁড়াতে গেছিলাম, ছাদে।
আর দাঁড়ায়েই ছিলাম ।

মাথার উপরে চিলের মত
হঠাৎ হঠাৎ উড়তেছিল হেলিকপ্টার।

রিয়া গোপও ছিল কোন এক ছাদে। 
খেলতেছিল তোমার মত।

অথচ তুমিও আছো।
আমিও আছি।
রিয়া গোপ আর নাই।

 

ঘেরান

সামান্য বিষ্টি পড়তে না পড়তেই
মাটির এমন  ভুটভুইট্টা ঘেরান পাইলাম
যেন কোন রোজাদার মুখ খুলছে 
যেন মাহফুজুর রহমানের মা
তিন মাইয়ার পরে যার একটাই পোলা
রক্তমাখা শার্ট থেকে মনার ঘেরান নিতেছেন