সামাজিক মাধ্যম ও অন্যান্য কবিতা
স্কাইলার্ক
স্কাইলার্ক স্কাইলার্ক আকাশের বুকে
টানা সুরে গাও গান কী ব্যথার সুখে!
কী সুখের ব্যথা বাজে পরানে পরানে
কী ব্যথার সুখ তা ছোটো বুক জানে?
স্কাইলার্ক স্কাইলার্ক আমাদের গ্রামে
ছোটো নদী বয়ে যায় পায়ে এসে থামে
তার চলা দেখে জানি দিন বহমান
রাতও আসে আকাশে পাহাড় সমান
স্কাইলার্ক স্কাইলার্ক তুমি কিগো জানো
আমাদের বুকে এক আকাশ নামানো
সে আকাশে কালো মেঘ ঘনঘটা আর
তুমি উড়ে উড়ে সুর মিছে বোনো তার
স্কাইলার্ক স্কাইলার্ক কেনো এতো কাঁদো?
আকাশের বুক নাই, নাই কোন ছাদও।
স্কাইলার্ক স্কাইলার্ক মানুষের বুকে
টানা সুরে গান গাও কী ব্যথার সুখে!
সামাজিক মাধ্যম
এত এত যোগাযোগ এত মাধ্যম,
যোগাযোগ হয় আর কই
মানুষে মানুষে!
মানুষের পাশে
লাশ হয়ে পড়ে আছি
দুমড়ানো ঘাসে।
স্লুইসগেট
দরোজা খোলো নদী, দরোজা খোলো।
খোলো সমস্ত স্লুইসগেট।
অনন্ত মদিরার সাথে ভাজা পমফ্রেট
পোতায়া যাচ্ছে ব্যাগে, ওলো
দরোজা খোলো।
তোমার দরোজার বাইরে ক্রমাগত করাঘাতে
কড় পড়ে যাচ্ছে হাতের পীঠে। চিরদিন ভুল
করে চলা লোকটির খসে যাচ্ছে আঙুল।
তার বুকের ভেতরের চারাগাছটি শুকিয়ে যাচ্ছে
অভাবে জলের, ক্ষীণতোয়া পিতৃত্বের সাধ…
দরোজা খোলো নদী, অপেক্ষাতুর দুই কাঁধ।
আমার সাথে চলো।
কবে কোনও বাঁধ থামিয়েছে কোন্ নদী! বলো!
খুব প্রেম…
প্রেম করেছে বিন্দুর মতো আমার হাল
আমি বসে থাকি নিঃস্ব হা-মুখ
প্রেমিক বেসামাল
তুমি জেনে গেছো বলে—ভালোবাসি
ফলে সমস্ত কাজের শেষে আসি আসি
করে
আমার প্রায়োরিটি—
আসে না, সবুজ বাতির পাশে
এনগেজড ফোন বাজতে থাকে তোমার
চোখমুখ বন্ধ করে গুঁজে ঘাড়—
তুমি অপার
ব্যস্ততায় ডুবে থাকো
ভালোবাসি বলে আমি আধুনিক বুঝদার
আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ফরেভার ওয়াইটার
(আমারই ভার চির-অপেক্ষার)
তোমার উচ্চাভিলাষ আরোহন আবদার
মেনে নিয়ে বসে থাকি, ইন্তেজার
ইন্তেজার মনে— অথচ কত নয়া ক্লাইম্যাক্স-এ
কত জল-টলমল খসে যায় তোমার!
নিজেরে বোঝাই প্রেমিক আমি
স্বাধীনতাকামী, মুক্তমনা
তোমার ডানার পাখার মালিক আমি—
তুমিই দিয়েছো এই মালিকানা
এ 'আমি' তোমারে ডিস্টার্ব করবে না
তুমি চাইলেই কেবল তোমার ভেতরে ঢুকে যাবো
যত ইচ্ছাই হোক মুখ ফুটে বলবো না—
এই জন্ম বোবাভাষায়—অপেক্ষায় যাক,
পরের জন্মে, তোমার সন্তান হবো,
চোখছাড়া করতে পারবে না।
একক মহড়া
কৃষ্ণতিলে লেখা থাকে যে অপূর্ব মাধুরীসংকেত তা কেবল
প্রেমিকপাঠ্য বলে গোধূলিতে মেশে এসে দিন আর রাত
যেমন শ্মশানে, ছাইভস্মে পড়ে থাকা মৃগনাভী মাড়িয়ে শেকল
জীবনের, মাটির মদিরা মেখে নেয় অনন্তের হাতে রেখে হাত;
সেইভাবে বুকের কিনারে সাড়ে চব্বিশ হরফ লুকিয়েছো ঢেউ
এমন গভীরে যেন কেউ শ্রুতিইতিহাস ঢুঁড়ে পায় না হদিস
অথচ জাগরকাঠি হাতে ছিল, ছিল আত্মবিষধর কেউ
তোমাকে দেখাতে পথ, মানোনি ঈশ্বর তুমি নিজেকে নবিশ!
ছুটেছো দূরের কাছে, বসোনি কাছের ঘাসে মাতাল ঋত্বিক
অন্ধস্কুলের দুয়ারে গিয়ে শেখোনিতো বর্ণান্ধের সংকেত
নিজেকে পুড়িয়ে আমি বীজ আর অনিকেত পাখির খোঁজে
উড়ে উড়ে দেখেছি জীবন ঈশ্বরের অপারগতার ক্লেদ!
জীবনের সুমেধ হিশাব সোজাবাঁকা হৃদয়ের অনেক ভাঙচুর
বুঝেসুঝে আমি পলাতক এক সমুদ্রসাক্ষী বেলাভূমিতে একা
আদিগন্ততক ফাঁকা রেলপথে দাঁড়িয়ে পতপত উড়াচ্ছি পতাকা
আমার এ একক মহড়া গুড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর শেষ জাদুঘর
প্রান্তর
আর আমাদের
ডানায় আগুন ধরে গেলে
মধ্যাকর্ষণ আমাদের পরাজিত করে—
পতনোন্মুখ উড়ালে উড়ালে
পৃথিবীর পৈঠায় পতিত হতে হতে জানা হয়—
পালক গজাবে না কখনো আমাদের ডানায় ডানায়
(আর আমরা কখনো উড়তে পারব না)
আর আমাদের ছিল এক মরিয়া স্বর্গের ধারণা
সেখানে যা চাই তাই
যখন চাই যেমন
যেমন চাই তেমন
সব পাওয়া পেয়ে যাওয়ার সব ভয়াবহ মুহূর্ত
অথচ
ইচ্ছের বাইরেও আছে তোমার এক প্রগাঢ় উপস্থিতি
শুধুমাত্র বিশ্রামে সে উপস্থিতি পরিপূর্ণ
আর সে ভালোবাসায়, যে প্রেম চায় না কিছুই
বিশ্রাম এক এমন শুয়ে থাকা
যেখানে তোমাকে কোনভাবেই খুঁজে পাওয়া যায় না
এমনকী তুমিও জানো না, শুয়ে তুমি আছো, চিরবিশ্রামে।
ঐন্দ্রজালিক
অট্টচাঁদে যেই লেগেছে বুনো মেঘের কালি
জিভ নাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে আকাশ ফালি ফালি
আকাশ যে তার বাহুমূলে বিছিয়ে আছে নদী
সাগর পাহাড় চোখে তারই ডাকছে নিরবধি
সেই ইশারায় সায় দিয়ে আজ পয়োধরে এসে
শ্বাসের বাতাস ঝড় তুলেছে দাদরা তালের শেষে—
শরীর তারই গভীর যেন পাহাড় নদী খাদ
আঙুলগুলি ঠিক বোলালে প্রচণ্ড প্রপাত
সেই প্রপাতে যাচ্ছে ভেসে ফুল্ল-সমারোহ
পল্লবে তার রঙের বাহার মৃত্যুর আবহ
রঙগুলি সব কী কারণে কালোর দিকে ধায়?
অট্টচাঁদও যায় ঢেকে যায় কালোর কালিমায়—
যেই লেগেছে হট্টিচাঁদে বুনো মেঘের কালি
জিভ নাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে আকাশ ফালি ফালি
ফালি ফালি আকাশটাকে যেই ঢেকেছে মেঘে
তোমার মুখটি অপসৃত নিরুব্ধ আবেগে।।
নৈমিত্তিক
প্রাণটা কেবল
আদর পেতে
ওষ্ঠাগত
ওষ্ঠ তোমার
কোন সুদূরে
কোথায় নত!
এসব আমার
ভাবতেও আর
ভাল্লাগেনা
তুমি আমার
স্বপ্নে পাওয়া
যৌনসেনা
এসো আমার
দিল খুলে নাও
অন্ধকারে
ডুব মেরে যাও
রক্তনালী
ঝণৎকারে
বুঝবে তুমি
সেখানটাতে
একটা তুমি বসে
আমি হয়ে
তোমার অঙ্ক
কষছো কষে কষে।



দারুণ সব কবিতা। বহুদিন এত ভাল কবিতা পড়িনি। সবগুলি কবিতাই আলাদা রকমের ভালো।
হিমেল আশরাফ
আগস্ট ০৮, ২০২৬ ০৫:৫৩