বিবির দরগা

অ+ অ-

 

এক

চারিদিকেই আজ তুমুল থইথই। তুমি জল, আমি আছি দূরে। তুমি রয়েছো পাহারায়, আমিও। নাবিকটিকে দেখা যায় না।

জল, যদি রাখি এতটুকু পায়ের ছাপ, তুমিও মুছে দিবে?

 

দুই

এই আমাদের জীবন। ছুটে চলেছে ধুলি আর মরমের সহিস। প্রাজ্ঞ সমাজ বসে আছে বোবা খাতা কোলে নিয়ে।

আমাদের রেটিনা খুলে বেরিয়ে পড়ছে অস্তিত্বের মরিচা। দাঁড়িয়ে আছে বৃহৎ, অত্যাশ্চর্য সব কলাভবনের কঙ্কাল। ললাটের অভিসন্ধর্ভ আজ নিজেই অসহায়। কেউ কৃষ্ণ নাম জপে। নদীভর্তি এত জল তবু বিষাদের বিশাল গহ্বর আমাদের টানে। আমি আজ দগ্ধ। এই অগ্নিভূমি আজ আমার বিপ্রতীপ সরল্যের প্রতিবেশ। আমি লুটিয়ে পড়ি। আমি ঝিমিয়ে পড়ি।  এই সিঁদুরবঞ্চিত নিরিখ আমাকে বানিয়ে তুলেছে প্রজন্মের  হৃদখেলাফি! 

 

তিন

আজ এই  বৈরি হাওয়ার মওসুমে বিষণ্ণ হাঁসপাল নিয়ে দূরে চলে যাব।

গরম উথলে উঠছে।যেমন বলক দিয়ে উঠে দুধের হাসি। এই বুঝি জেগে উঠল নতুন কোন ঝড়।চিরমর্মর ধানের ক্ষেতে আজ বারিষের হাওয়া চাই। এসো হে ফেরারি আসামি, নিজের তৈরী কয়েদ খানায়। ফুল ফোটাও। লাজুক বাচুরটিকে দাও ওলানের নাগাল। রহস্যউপন্যাসের চরিত্রের মতো স্মিতহাস্য শামুক কী বার্তা দিতে চায়? চল যাই আজ আরও দূরে, সনাতন বর্ষার কামনায়। হে বিরহের কোকিল, দূরের দূতাবাস থেকে দাও সাড়া, দাও কিছু মার্জিত সদুত্তর!

 

চার

তোমার বাগানে বুঝি গন্ধরাজ ফুটেছে? এই উছিলায় আমি চলে আসতেছি।

দৌলতকান্দি পার হয়ে যাইতেছি। ঘাস খাওয়া গরু, লম্বা গলার সাদা সাদা বক পার হয়ে যাইতেছি, ইউনিফর্ম পরা মেয়েদের সারি পার হয়ে যাইতেছি, খেত খামার অত নয়, কচুরিপানার সারিও পার হয়ে যাইতেছি। বাতি কলাগাছ কেটে দেওয়ার পরে যেভাবে মিশে যায় মাটির সাথে, রুয়ে দেওয়া ধানগাছও একদিন, অহেতুক উলুবন সেও একদিন যেভাবে মিশে যায়, আমিও তেমনি মিশে যাইতে চাই তোমার ভিতরে একদিন।

দুটি পলাশ, দুটি পলাশ আজ এত একা! ধোঁয়া ওঠা সালুন-ভাতের বন্দোবস্ত আজও আমি যেমন চাই। এত কিছু দেখা হইল, তুমি তবু রয়ে যাইতেছ যেন আমার সমস্ত না দেখার ভিতরে।

 

পাঁচ

সমগ্র বন উজাড় হয়ে গেছে, কেবল পথটুকু নিয়ে বসে আছি!