ধারাবাহিক উপন্যাস : পর্ব–২ || ও আমার বন্ধু
ও আমার বন্ধু || পর্ব-২
শাহবাগের মোড়ে দাঁড়িয়ে সান্তানু। তার কাছে শহরের কিছু জায়গা স্মৃতির মতো। বারবার ফিরে আসে, ততবারই নতুন কিছু আবিষ্কার হয়। রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে ভিড়। কেউ রাজনীতি নিয়ে তর্ক করছে, কেউ কবিতা নিয়ে, কেউ নতুন প্রকাশিত বই নিয়ে। ঢাকা শহরের এই অংশটুকুতে এখনও এমন অনেকেই আছে, যারা ব্যস্ততার মাঝেও কয়েক ঘণ্টা শুধু কথা বলার জন্য বেরিয়ে আসে।
মুস্তাফিজের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে সঙ্গে করেই সান্তানু এসেছে। দূর থেকেই অর্ণব হাত নাড়ল—‘এই যে মহামান্য লেখক! অবশেষে দেখা দিলেন!’
সান্তানু হেসে বলল—‘এতদিন পর তোর কাছে বুঝি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ দরকার?’
—‘তোর অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ নেই,’ অর্ণব হেসে বলল, ‘সন্দেহ হলো তুই এখন নিজের মধ্যে থাকিস কি না ‘
মুস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে বলল—‘আরে, তুই! ফোন বন্ধ কেন? দশ-পনেরোবার কল করেছি। আজকাল কী হচ্ছে তোর? দুজন এক সাথে ছিলি?’
সান্তানু উত্তর দিল—‘এই তো, দেখা হয়ে গেল।’
পাশে বসে থাকা বিষ্ণু হেসে উঠল—‘অর্ণব ঠিকই বলেছে। সান্তানু এখন মানুষ নয়, চলমান আর্কাইভ। পুরোনো বই, স্মৃতি আর দুঃখ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর মুস্তাফিজ? ও তো পুরো লাপাত্তা।’
চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সান্তানু বলল—‘পুরোনো জিনিসের একটা সুবিধা আছে। ওরা হঠাৎ বিশ্বাসঘাতকতা করে না।’
ফারহান মাথা নাড়ল—‘এই জন্যই তোর সঙ্গে সমস্যা। তুই সবকিছু এত গভীর করে দেখিস যে সাধারণ আনন্দগুলোও তোর কাছে গবেষণার বিষয় হয়ে যায়।’
এরই মধ্যে এসে বসল সুলেখা আর মুসতারিন। সুলেখা বলল—‘নতুন বইয়ের কাজ কতদূর?’
—‘চলছে।’
অর্ণব সঙ্গে সঙ্গে বলল—‘এই “চলছে”টা কোন স্টেশনে গিয়ে থামবে?’
মুস্তাফিজ হেসে উঠল—‘এই “চলছে” শব্দটাই লেখকদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। কাজ হোক আর না-হোক, উত্তর একই।’
হাসিতে ভরে গেল আড্ডা। এই আড্ডাগুলোই সান্তানুর ভালো লাগে। এখানে কেউ তাকে প্রতিষ্ঠিত লেখক হিসেবে দেখে না, ব্যর্থ বলেও বিচার করে না। এখানে সে শুধু তাদের বন্ধু। এতক্ষণ চুপ করে থাকা মুসতারিন বলল— ‘সান্তানু, একটা কথা বলি?
—‘বল।’
—‘তোর লেখায় একটা বিষয় বারবার ফিরে আসে।’
—‘কী?’
—‘হারিয়ে যাওয়া মানুষ। তারা আসলে কোথাও যায় না। শুধু অন্য রূপে ফিরে আসে।’
কথাটা শুনে সান্তানুর বুকের ভেতর অকারণে ঢেউ উঠল। সে উত্তর দিল না। তখন সান্তানুর পায়ের কাছে ভাঁজ করা একটি ছোট কাগজ পড়ল। সে অবাক হয়ে নিচে তাকাল। একবার বিষ্ণুর দিকে চোখ গেল। বিষ্ণু তখন স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই অর্ণবের সঙ্গে কথায় মগ্ন। কাগজটা কি ওর হাত থেকেই পড়েছে? নাকি বাতাসে কোথাও থেকে উড়ে এসেছে? নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় ছিল না।
সে নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল। খুলতেই লাইনটিতে চোখ আটকে গেল।
‘কিছু ফিরে আসে না সান্তানু। শুধু তাদের অসমাপ্ত কথাগুলো ফিরে আসে।’
লেখাটা পড়েই তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। হাতের লেখাটা তার ভুল না হলে মেঘলার। কী আশ্চর্য সে এখানে? কীভাবে? কোথায় তবে!
সে কৌতুহল নিয়ে চারদিকে তাকালো। শূন্যতা। মুস্তাফিজ কাগজটা হাতে নিল—‘কী রে? কার চিঠি?’
পড়ে সে ভুরু তুলল—‘উফ! বেশ সাহিত্যিক ব্যাপার তো!’
বিষ্ণুও কাগজটা দেখে বলল—‘যে-ই লিখুক, লেখাটা খারাপ নয়।’
ফারহান হেসে বলল—‘সান্তানু, তোর ভক্তের সংখ্যাও দেখি কম না! যেখানে যাচ্ছিস সেখানেই...’
অর্ণব কাগজটা হাতে নিয়ে বলল—‘ভক্ত হোক বা শত্রু, সে তোকে ভালোই চেনে।’
সান্তানু কিছু বলল না। চুপচাপ কাগজটা ভাঁজ করে পকেটে রেখে দিল। আড্ডা আগের মতো চলতে লাগল। সান্তানুর আর কোনো কথাই কানে ঢুকছিল না। তার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল। মেঘলা কি এই শহরেই থাকে? যদি তাই না হয়... তবে তার হাতের লেখা এলো কোথা থেকে?
অর্ণব এবার বিষ্ণুর দিকে তাকিয়ে বলল—‘আচ্ছা, তুই তো এতক্ষণ শুধু অন্যদের নিয়ে কথা বললি। তোর খবর কী? শুনলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের নিয়ে বেশ ঝামেলা সামলাতে হয়েছে?’
বিষ্ণু দীর্ঘশ্বাস ফেলল—‘ঝামেলা নতুন কিছু না। নতুন হচ্ছে ধৈর্য কমে যাওয়া। এখন সবাই কথা শোনার আগে উত্তর দিতে চায়।’
ফারহান চায়ে চুমুক দিয়ে বলল—‘সেটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়। নিউজরুমেও একই অবস্থা। খবরের আগে মতামত তৈরি হয়ে যায়।’
সুলেখার ঠোঁটে হাল্কা হাসির রেখা। সে বলল—‘আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যেখানে পাঠক পড়ার চেয়ে উদ্ধৃতি দিতে বেশি ভালোবাসে।’
কথাটা শুনে সবাই মাথা ঝাঁকালো। তখন দূরের মসজিদে এশার নামাজের আহ্বান ভেসে এল। চায়ের দোকানে নতুন কেটলি চড়াল। আড্ডা যেন এখনই আসল জায়গায় পৌঁছাতে শুরু করেছে।
বিষ্ণু চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে বলল—‘জানিস, আগে ভাবতাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াব। ছাত্রদের সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলব, নতুন নতুন চিন্তা নিয়ে কাজ করব। এখন দেখি, দিনের অর্ধেক সময় কাগজপত্রে, বাকি অর্ধেক ব্যাখ্যা দিতে দিতে চলে যায়।’
ফারহান হেসে বলল—‘আমাদেরও একই দশা। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে খবরের চেয়ে ব্যাখ্যাই বেশি লিখতে হয়। খবর প্রকাশের আগেই রায় দিয়ে বসে থাকে।’
সুলেখা কাপটা নামিয়ে বলল—‘এটা শুধু গণমাধ্যমের সমস্যা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অবস্থা। গবেষণা করতে কেউ চায় না, কিন্তু গবেষণার ফল নিয়ে সবাই মতামত দিতে চায়।’
মুস্তাফিজ হঠাৎ বলল—‘তোরা অন্তত বেতন পাস, আমার বেতন নেই। শুধু বই ছাপি।’
সবাই হেসে উঠল।
সে বলল—“হাসিস না, একজন লেখক পাণ্ডুলিপি দিয়ে বলেন, ‘ভাই, বইটা বের করো।’ বই বের হলে বলেন, ‘প্রচার করলে বিক্রি হতো।’ বিক্রি না হলে বলেন, ‘পাঠকের রুচি নষ্ট হয়ে গেছে ।’ শেষে সব দোষ প্রকাশকের।”
অর্ণব হো হো করে হেসে উঠল—‘তুই লেখকদের নিয়ে বই লিখে ফেল। নাম দিবি, “অভিমানতত্ত্ব”।’
মুস্তাফিজ বলল, ‘লিখব, প্রথম কপিটা তোকে উপহার দেব।’
ফারহান সিগারেট ধরিয়ে বলল—‘আমার অন্য চিন্তা। প্রতিদিন এত দুর্ঘটনা, মৃত্যু, দুর্নীতি, হতাশার খবর লিখতে লিখতে মাঝে মাঝে বিশ্বাসের দোলাচল শুরু হয়, পৃথিবীতে বুঝি ভালো কিছু আর ঘটেই না।’
—‘ঘটে,’ মুসতারিন শান্ত গলায় বলল। সবাই তার দিকে তাকাল। ‘ভালো ঘটনা খবর হয় না। তাই আমাদের চোখে পড়ে না।’
সুলেখা বলল—‘এই জন্যই মুসতারিনকে আমি পছন্দ করি। দশ মিনিট চুপ থেকে একটা বাক্য বলে সবাইকে চুপ করিয়ে দেবে।’
মুসতারিন লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল। অর্ণব এবার সান্তানুর দিকে তাকাল—‘তুই কিছু বলছিস না কেন?’
সান্তানু একটু ভেবে বলল—‘শুনছি।’
—‘শোনারও একটা সীমা আছে’, অর্ণব বলল।
সান্তানু বলল—‘না, যত কম কথা বলা যায়, তত বেশি শুনতে শেখা যায়।’
বিষ্ণু বলল—‘তোর এই দার্শনিক কথাগুলো শুনলে আমার রাগ লাগে।’
—‘কেন?’
—‘কারণ পরে বাড়ি গিয়ে ভাবতে হয়।’
হাসির রোল উঠল। চায়ের দোকানের ছেলেটা এসে জিজ্ঞেস করল—‘আরেক রাউন্ড হবে?’
অর্ণব উত্তর দিল—‘চা দাও। তবে চিনি কম। আমরা এমনিতেই বেশ মিষ্টি কথা বলি।’
ছেলেটাও হেসে চলে গেল। ফারহান এবার সুলেখার দিকে তাকাল—‘তোর কী খবর? গবেষণার কাজ কেমন চলছে?’
সুলেখা দীর্ঘশ্বাস ফেলল—‘গবেষণা চলছে। আসলে কি জানিস, আমরা বই লিখছি না, ফরম পূরণ করছি।’
—‘তুই ক্লান্ত?’, সান্তানু জিজ্ঞেস করল।
—‘ক্লান্ত নই, হতাশও নই। শুধু আমরা সবাই দৌড়াচ্ছি। কোথাও পৌঁছাতে চাই, কোথায়? সেটা আর জানা নেই’, সুলেখা বলল।
বিষ্ণু মাথা নাড়ল—‘আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট কী জানিস?’
কেউ উত্তর দিল না। বিষ্ণু নিজেই বলল—‘আমরা এখন বেঁচে থাকার জন্য সময় দিচ্ছি। জীবনকে সময় দিচ্ছি না।’
কথাটা সান্তানুর ভেতরে কোথাও গিয়ে থেমে রইল। সে জানে, কিছু বাক্য সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। সময়ের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একদিন তারা নিজের অর্থ প্রকাশ করে। হয়তো কোনো এক উপন্যাসে, অন্য কোনো চরিত্রের মুখে, এই কথাই একদিন ফিরে আসবে।
ঠিক তখনই পাবলিক লাইব্রেরির দিক থেকে একদল তরুণের হাসি আর গানের শব্দ ভেসে এল। সেই কণ্ঠে ছিল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাহস, বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস আর বয়সের নির্ভার আনন্দ। আড্ডায় বসে থাকা সবাই চুপ করে গেল।
শহর রাতের ভেতর ঢুকে পড়ছে। তবু সারা দিনের জমে থাকা তাপ এখনও বাতাস ছেড়ে যায়নি। গাছের পাতাও যেন গরম শ্বাস ফেলছে। চা পানের দ্বিতীয়ের পর তৃতীয় রাউন্ড শুরু হলো। দোকানদার হাসতে হাসতে বলল—‘আজ রাতটা এখানেই কাটাবেন?’
অর্ণব বলল—‘আপনি চা দিতে থাকেন, রাত নিজেই কেটে যাবে।’
দোকানদারও হেসে চলে গেল। মুস্তাফিজ কাপ হাতে নিয়ে বলল—‘জানিস, ছোটবেলায় ভাবতাম বই ছাপার ব্যবসায় আসব, সারাদিন বইয়ের গন্ধে থাকব। এখন দেখি, বইয়ের চেয়ে হিসাবের খাতা বেশি দেখতে হয়।’
ফারহান বলল—‘তোর কী দুঃখ?’
—‘দুঃখ নেই,আক্ষেপ আছে।’, মুস্তাফিজ বলল।
—‘কীসের?’
মুস্তাফিজ চায়ের কাপ নামিয়ে বলল—‘জানিস, একটা ভালো পাণ্ডুলিপি হাতে পেলে এখনও বুক ধড়ফড় করে। বাজার আগে জানতে চায়, লেখকের অনুসারী কত। বই কেমন, সেটা পরে।’
সুলেখা মাথা নাড়ল—‘সব ক্ষেত্রেই এখন একই চিত্র। যোগ্যতার আগে সবাই দৃশ্যমানতাকেই বেশি মূল্য দেয়।’
বিষ্ণু মুচকি হেসে বলল—‘দৃশ্যমানতা এখন নতুন এক ধরনের মুদ্রা। যার কাছে যত বেশি, সে-ই যেন তত ধনী।’
এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিল সান্তানু। এবার সে দৃঢ় স্বরে বলল—‘কিন্তু মুদ্রারও অবমূল্যায়ন হয়।’
কথাটা শুনে অর্ণব হো হো করে হেসে উঠল—‘দেখলি? এই জন্যই ওকে আড্ডায় ডাকি। আধাঘণ্টা চুপ করে থাকবে, শেষে একটা বাক্য বলে সবাইকে ভাবিয়ে তুলবে।’
ফারহান সান্তানুর দিকে তাকিয়ে বলল—‘সত্যি করে বল, কখনও লেখালেখি ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হয়েছে?’
প্রশ্নটা শুনে সান্তানু চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে বলল—‘হয়েছিল।’
সবাই একসঙ্গে তার দিকে তাকাল।
—‘তারপর?’
—‘পারিনি।’
—‘কেন?’
সান্তানু হেসে বলল—‘যে সত্যিই লিখতে শুরু করে, সে লেখা ছাড়তে পারে না। কখনও শুধু শব্দগুলো কিছুদিন তার কাছে ফিরে আসে না।’
মুসতারিন আস্তে করে বলল—‘কবিতাও তাই। কবিতা মানুষকে ছেড়ে যায় না। মানুষই কবিতার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।’
অর্ণব হেসে বলল—‘এইবার একটা কবিতা শোনা যাক। কতদিন তোর মুখে কবিতা শুনিনি।’
মুসতারিন একটু অস্বস্তি নিয়ে চারদিকে তাকাল—‘এখানে?’
—‘হ্যাঁ, এখানেই। কেন তুই কি আর এখানে কবিতা শোনাসনি?’
অর্ণব বলল।
—‘হ্যাঁ শুনিয়েছি।’
—‘তবে?’
অর্ণব আরও অবাক।
—‘তবে কিছুই নয়!’
বলে মুসতারিন চায়ের কাপটা রেখে স্থির কণ্ঠে বলতে শুরু করল—‘মানুষ আসলে বাড়ি ফেরে না,/ ফেরে শুধু দরজার কাছে।/ যে আলো একদিন নিভে গিয়েছিল,/ তার ছায়া আজও জানালার কাঁচে।’
কবিতা শেষ হওয়ার পর কেউ হাততালি দিল না। কয়েক সেকেন্ডের কবিতারই অংশ হয়ে রইল।
ফারহান মৃদু স্বরে বলল—‘চার লাইনে এতটা একাকিত্ব ধরে রাখা যায়?’
মুসতারিন হালকা হেসে উত্তর দিল—‘একাকিত্বের জায়গা খুব ছোট। তাই শব্দও বেশি লাগে না।’
অর্ণব বলল—‘আরেকটা শোনা।’
মুসতারিন মাথা নেড়ে বলতে শুরু করল—‘যে নাম উচ্চারণ করি না,/ সে-ই সবচেয়ে জোরে বাজে।/ নীরবতারও শব্দ আছে,/ শুধু কোলাহল তার ভাষা বোঝে না।’
বিষ্ণু দীর্ঘশ্বাস ফেলল—‘এই জন্যই কবিদের আমি ভয় পাই।’
মুস্তাফিজ হেসে বলল—‘কেন?’
—‘কারণ ওরা যে কথাটা চার লাইনে বলে, সেটা আমরা চার বছরেও বুঝতে পারি না।’
সবাই হেসে উঠল। সান্তানুও হাসল। তবে আজকের হাসিটা অন্যদিনের মতো ছিল না। সে ভাবে, মানুষের পাশে বসে থাকারও এক ধরনের আরোগ্য আছে। সব কষ্টের ওষুধ পাওয়া যায় না। কিছু কষ্ট শুধু আপনের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা কাটালেই একটু হালকা হয়ে আসে।
ঠিক তখনই পাশ থেকে একজন প্রবীণ উঠে দাঁড়ালেন। চলে যাওয়ার আগে তিনি একবার স্থির দৃষ্টিতে সান্তানুর দিকে তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে বিস্ময় ছিল না, ছিল কোনো পুরোনো পরিচয়ের ক্ষীণ ইঙ্গিত।
সান্তানু বুঝতে পারল না, তিনি তাকে একজন লেখক হিসেবে চিনেছেন, নাকি তার জীবনের কোনো অজানা অধ্যায়ের সঙ্গে কোনোভাবে পরিচিত। কিছু না বলেই ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেন তিনি। পর মুহূর্তেই অর্ণবের হাসির শব্দে তার ভাবনা ভেঙে গেল। আড্ডা তখন নতুন এক প্রসঙ্গে ঢুকে পড়েছে। তবু সান্তানুর মনে একটি অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়ে গেল, যার উত্তর সে সেদিন খুঁজে পেল না। ১
পড়ুৃন ► প্রথম পর্ব—১ || আসছে ► তৃতীয় পর্ব



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন