লাল দ্রাঘিমা || শেষ পর্ব
লাল দ্রাঘিমা || শেষ পর্ব
পড়ুন ► প্রথম পর্ব ► দ্বিতীয় পর্ব ► তৃতীয় পর্ব ► চতুর্থ পর্ব ► পঞ্চম পর্ব ► ষষ্ঠ পর্ব
► সপ্তম পর্ব ► অষ্টম পর্ব ► নবম পর্ব ► দশম পর্ব ► একাদশ পর্ব
No country is so wild and difficult but men will make it a theatre of war.
—Ambrose Bierce
সব সমস্যা আবার একসাথে শুরু হলো। বালামৎ লেকের পাশের কারখানা থেকে বহুবার জানানো হলো, খরচের বাজেট মিললেই পাইপ লাগিয়ে দেওয়া হবে, বেশি দিন না। ওদিকে তারা নিশ্চয়তাও দিল যে লেকের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মানুষ তা-ও জানাল, লেকের পানি কালো হয়ে যাচ্ছে, ‘কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁদ কেনে? কালো কেশে রাঙা কুসুম হেরেছ কি নয়নে?’—ওরকম কালো। তা-ও জানানো হলো, কোনো সমস্যা নেই, লেকের পানি দূষিত হয়ে গেছে, পাইপ লাগানোর সময়ে ঠিক করে ফেলা হবে। ফল—লেকটা বিস্ফোরিত হলো একদিন। মানুষজন প্রথমে ভেবেছিল, ভূমিকম্প হচ্ছে কিন্তু এমন একটা গন্ধ, আর অনিয়মিত গরম। কিন্তু প্রচণ্ড আওয়াজে সব উদ্দীপনা এলোমেলো হয়ে গেল, ওদিকে মাটিতে লেকের পানি চলে এলো, পুরা মাটি যেন কয়লা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
পুরান শহরের সবার আস্তে আস্তে খুব অ্যালার্জির সমস্যা হতে লাগল, সবার মধ্যে অন্য সব অসুখের চেয়ে ঠান্ডা-কাশির সমস্যা বেশি। বাতাসও আস্তে আস্তে ঘোলাটে লাগছে, এত যে পোর নিষ্ক্রান্ত হয়েছে। টিভিতে প্রায়ই দূষণের কথা বলে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে আর সাথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক যা অরাজকতা। স্মরণ দুই সপ্তাহ হলো ঠিকমতো ওর প্রাপ্য বাতাস গ্রহণ করতে পারে না ৷ তবে বড় বোনকে কষ্ট করতে দেখে ভালোই লাগে। রাতে প্রায়ই সিগারেট ধরিয়ে কাশি এলে সে বড় বোনের পায়ের আওয়াজ শোনে। ঘুমাতে পারে না; কারণ, বিছানায় সোজা হলে বুক থেকে গলা পর্যন্ত ধরে যায়৷ নিশ্বাস নিতে না পারলে ঘুমানোর প্রয়াসটা একধরনের বিলাসিতা। ওদিকে মি. খোরশেদের সাথে তার মেয়ের প্রায়ই ঝগড়া লাগে এখন। দেড় বছর হয়ে গেছে এরই মধ্যে, মেয়ে না খুঁজেছে চাকরি, না সে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। মাঝে একদিন একটা বিয়ের প্রস্তাব দেখানোতে... আর কী। সব ছেড়ে মি. খোরশেদ বরং বিলের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে লাগলেন। ওনার স্ত্রী অফিসের ট্রেনিং শিডিউলের সন্ত্রাসে পড়ে গেলেন। ওনার পরিচিত সবাই প্রায়ই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। তরুণ যারা আছে, এদের প্রতি সপ্তাহে শখ জাগে অনুষ্ঠান করবে। ‘পায়েস উৎসব’, ‘মাছ উৎসব’—আবার বাসার থেকে রান্না করে আনতে হবে, কিনে আনা যাবে না। মূল্যবোধের দোহাইয়ের ঠ্যালায় উনি এসবে অংশ নেন, কিন্তু মনে মনে ঘিন্নাও করেন এসব। বয়স তো তাকে এত পরিশ্রমের অনুমতি দেয় না, শরীরকে তাই ধার করে চলতে হয়।
সকালবেলা নাশতা শেষ করে স্মরণ বাবার কাছে গেলেন। পীরবাগের নতুন দালানে কিছু মানুষ ইতিমধ্যে উঠে গেছে, বসতি প্রায় স্থাপিত। সমস্যা হলো পানির বিল দ্বিগুণ এসেছে, কিন্তু স্মরণরা তো নতুন ফ্ল্যাটেই ওঠেনি। পানি বোর্ডের ইন্সপেক্টররা আজকে আসবেন, মি. খোরশেদ সব বিলের কাগজ একটা ফাইলে রাখছেন। স্মরণ বলল, ‘ব্যাংকের সমস্যা গেছে?’
মি. খোরশেদ কথা বলতে না চাইলেও বললেন, ‘না, ওই যে সবার ব্যাকগ্রাউন্ড দেখবে।’
স্মরণ হেসে বলল, ‘আমাদের আর ওই নতুন জায়গা দেখা হবে না মনে হয়।’
‘দরকার কী দেখার। দেখোস নাই, জমি নিয়ে এখন আবার লাগালাগি হইছে। জমি বিক্রি করছে কম দামে আবার যার জমি সে-ই জানে না এই অবস্থা। ওইভাবে রাজস্ব উঠবে নাকি? সামনে দেখবি, জীবিত-মৃত যা-ই হোক, সবার ওপরে কমপক্ষে ৮৫ হাজার খরচের কর পড়বে। কেউ বুঝবেও না।’
কথা সত্য। খালি জমি না, আরও সমস্যা শুরু হয়েছে খালের পানি নিয়ে। পূর্ব দিকের ঝুড়িফেলা নদীর থেকে টানা সম্ভব না; কারণ, পানি নেই। রাস্তাঘাট প্রায় নির্মিত, তবে যেসব টেকনোলজি অধিষ্ঠিত করার ইচ্ছা ছিল; কিছুই হয়নি। ট্রায়াল হিসেবে অবশ্য তারা একটা স্মার্ট শহর খুলেছে। পার্কসমান জায়গা, মানুষ গিয়ে ঘুরে আসে, খরচ অনেক। ভার্সিটির মানুষজনও যেতে চাচ্ছে। ওখানে নাকি খুব বড় ধরনের একটা জিনোম ল্যাব বানানো হবে। স্মরণের একটুও ইচ্ছা নেই যাওয়ার।
বাবাকে বলল, ‘একটু বাইরে যাব আজকে।’
‘ক্লাস নেই?’
‘বন্ধ। পরের সপ্তাহ থেকে ক্লাস।’
মি. খোরশেদ মাথা নামিয়ে বললেন, ‘এত খরচ নিয়ে তো আর ভাবতে ইচ্ছা করে না। এই যে দেখ সকাল দশটা বাজে, এখনো তোর বোন ঘুমায়। কোনো লজ্জা আছে? আমার ইচ্ছা করে না আর বাবার দায়িত্ব পালন করতে।’
স্মরণ সোফা থেকে উঠে বলল, ‘খালি বাস ভাড়া দিয়ো।’
বাবাকে অনেক ইচ্ছা করল ত্বকীর কথা বলতে কিন্তু বলল না। ত্বকীর বাবা চাকরি থেকে পদত্যাগ করে ফেলেছেন, মাঝে ওর মায়ের সাথে স্মরণের কথা হয়েছিল। কিন্তু ত্বকীর প্রসঙ্গ ওঠেনি। ওর গান আর রিলিজ পাবে কি না কে জানে, মিডিয়ায় ভার্সিটির মানুষজনের দরদ দেখে স্মরণের ঘিন্না লাগে। একটাও সৎ অভিপ্রায় না, জানোয়ারের দল সব। কী সুন্দর করে এরা অভিনয় করছে। ইদানীং স্মরণের মনে হয় এই দেশে বিদেশিদের দ্বারা গণহত্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, আরও বিস্তারিতভাবে হওয়া উচিত ছিল। গণহত্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া জাতিগুলোর হুঁশ থাকে।
বাইরে বের হয়ে বাসে উঠে গেল স্মরণ। কিন্তু ওঠার সাথে সাথেই বাস জোরে আরেক বাসের সাথে ধাক্কা খেল। ওদিকে আস্তে আস্তে আকাশে মেঘ জমছে, অন্ধকার এখনই নামবে না হয়তো, তবে দেরি নেই। এরই মধ্যে স্মরণ নেমে গেল বাস থেকে। সে রিকশা নিল। ছুটির দিন, বাসের তোপ ছাড়া প্রাইভেট কারের সাথে সেভাবে কিছু হচ্ছে না। মোরগফাঁস এলাকার কাছাকাছি আসার পরে মনে হলো, বামে সোজা গিয়ে ডানের গলির মুখে কবরস্থান, ত্বকীর কবর।
রিকশাওয়ালাকে বলল, ‘সোজা যান, ডান দিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।’
টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকল স্মরণ। বিশেষ নেত্রীর জন্মদিন আজকে, ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে তার জন্য আয়োজন। ওমন আহামরি কিছু না, তবে সকাল থেকে খালি ছাতু বক্তৃতা। সবাই জানে যে বিশেষ নেত্রী কেমন শক্তিশালী, কিন্তু সেসব তো বক্তৃতায় বলে লাভ নেই। স্মরণকে বক্তৃতা দিতে দিলে সে ফরেন পলিসি নিয়ে কথা বলত, কীভাবে ইইউর অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ছিলেন। আহা রে, ভালো করে প্রশংসা করার লোকও নাই।
ওদিকে বৃষ্টি নেমে গেল। কনসার্ট শুরু হবে পরে, সাউন্ড সিস্টেমের অবস্থা ভালো না, ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি আর সাউন্ড সিস্টেমের স্টেজের কাছে পানি উঠে গেছে। আজকে আসলে ত্বকীর পারফর্ম করার কথা ছিল, সুভাও আসত। ফুড সেকশনে ঢোকার সাথে সাথে কল এলো। শিশির ফোন দিচ্ছে, স্মরণ বারবার বলেছে ওকে কিছুদিন একা থাকতে দিতে। অবশ্য আজকে কল দেওয়াটা দোষের না, কারণ আছে। ফুড সেকশনে ঢুকে স্মরণ ফারিহাকে দেখে ফেলল। মেয়েটা কী জানি পান করছে, লাচ্ছি টাইপ কিছু। ওর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা হলো না কথা বলতে, সোজা বের হয়ে গেল। আপাতত বৃষ্টি নেই। তাড়াতাড়ি স্টেজ গোছানোর কাজ চলতে লাগল। আধঘণ্টা পরেও স্টেজ রেডি হয়নি, স্মরণ গিয়ে অডিয়েন্সে বসার সাথে সাথে ঘোষণা শুনল, ‘অতি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, কনসার্ট আরও দেরিতে শুরু হবে, মাইক কাজ করছে না…’
স্মরণ উঠে বেরিয়ে গেল।
সন্ধ্যা হবে-হবে, আবার ওদিকে বৃষ্টিও হবে-হবে। স্মরণ ঠিক করল রিকশা পরে নিবে, আগে হাঁটুক কিছুক্ষণ। একটা সিগারেট ধরাল। ফুটপাতে ভাসমান মানুষজন শুয়ে পড়ছে। তাদের পাশেই আবার অন্য ভাসমানরা পেশাব বা অন্য কিছু করছে৷ রাস্তা পার হওয়ার সময়ে সে মাইকের আওয়াজ শুনল, ‘দয়া করে আপনারা কেউ আতঙ্কিত হবেন না। একটু পরেই বৃষ্টি নামবে। অতি স্বাভাবিক বৃষ্টি, কোনো ভয় পাবেন না।’
নিজেকে বিভ্রান্ত লাগল স্মরণের। বৃষ্টি নামলে নামবে। প্যাকেট খুলে দেখল সিগারেট নেই। রাস্তা থেকে সিগারেট কেনার মুহূর্তে ওর কপালে ফোঁটা পড়ল, বৃষ্টির ফোঁটা। সিগারেট ধরাচ্ছে, কপালটা মুছল না, ধরায় নিক আগে। কিন্তু সিগারেট বিক্রেতা ভয়ার্ত গলায় বলল, ‘আপনার কপাল তো অনেকখানি কাটছে ভাই।’
মানে কী? কখন? সিগারেট ঠিকভাবে না ধরিয়েই স্মরণ কপালে হাত দিল। পুরা হাত লাল। কিছু বুঝে উঠবার আগেই জোরসে বৃষ্টি শুরু হলো। কিন্তু চারপাশ সম্পূর্ণ লাল। সব ধরনের যানবাহন, মানুষ, পশুপাখি, দালান, স্থাপনা—সবকিছু লাল, একদম লাল। সিগারেট বিক্রেতা তার জিনিসপাতি রেখেই দৌড় দিল।
পুরো শহর এখন রক্তাক্ত। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, কোনো রিকশা পাওয়া যাচ্ছে না। ওদিকে কিছুক্ষণ পরপর খাদক ভঙ্গিমায় বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আকাশে পুরোপুরি হূদমাখা আবর্তিত শাস্তি। যা বাতাস বইছে, তা একেবারে আদজাতির চিৎকার। রাস্তায় যা পানি জমেছে, সব দেখা যায়, একদম লাল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলার থেকে উৎকণ্ঠার আমেজ আসছে, তারা ক্ষমা চাচ্ছে যত সম্ভব। স্মরণ যত পারছে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছে। কোনো মানুষ শান্ত না, ধাক্কা লাগছে প্রচুর। অন্য সময়ে সে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে না, আজকে করতে গেল। ব্রিজের মাঝে মাঝে আসতেই সে জোরে আওয়াজ শুনল, দুইটা প্রাইভেট গাড়ির সংঘর্ষ। সে ওপর থেকে দেখার চেষ্টা করল, দুইটা গাড়িই লাল। স্মরণ বুঝে গেল, সে কাঁদছে। সবকিছু ওর একেবারে মনে পড়ছে। এত অল্প বয়স কিন্তু এত অনর্থক স্মৃতি। ভালো শার্টটা একদম লাল হয়ে গেছে। ওর মনে পড়ল ত্বকীর কথা ৷ আজকে ত্বকী মরলে রাস্তার থেকে ওর রক্ত পরিষ্কার করতে হতো না। ব্রিজ থেকে নেমেই স্মরণ ফুটপাতে পিছলে পড়ে গেল। মাথায় লাগেনি তবে পায়ের নখ উপড়ে গেছে মনে হয়। সামনেই দেখল একটা রিকশা। না থাক, রিকশা কেন নিবে, মরলে? অবশ্য বাবার দায়িত্ব কমতে পারে। ওটাও গর্বের বিষয় কিন্তু, সবাই মা-বাবার ইচ্ছা পূর্ণ করার সুযোগ পায় না। সে আরও সোজা হেঁটে নভোথিয়েটার পার হয়ে গেল। সামনের গলি দিয়ে বের হয়ে যাবে কি না ভাবল, এতে আর মেইন রাস্তায় যেতে হবে না। কিন্তু গলির মুখে মানুষ জড়ো হয়ে আছে। এদের হাতে কী? ভদ্রই লাগছে কিন্তু তাদের আতঙ্ক দেখে মনে হচ্ছে, এরা পরস্পরকে খেয়ে ফেলবে। কে যেন তাকে দেখল, না, গলিতে ঢোকা যাবে না। সোজা যেতে লাগল, কিন্তু পারল না, বমি হয়ে গেল। বমির রেজাল্ট স্মরণ দেখতে পারল না, কিন্তু বারবার মনে হচ্ছে, তার ভেতর থেকে মাংস বের হচ্ছে। আরও ডানে বসার স্থান, মানুষ সেখানে বাসের জন্য অপেক্ষা করে। স্মরণ বসে পড়ল, এত তৃষ্ণা পেয়েছে। সে মোবাইলটা বের করল। ইচ্ছা করছে বাবাকে ফোন দিতে৷ কিন্তু ফোন খুলে দেখল, বাবা ইতিমধ্যে ২০ বার কল দিয়েছেন। বাবাকে আর কল দিল না স্মরণ। একাকিত্ব কী? ওইটা সহ্য করার ক্ষমতা আছে ওর? অতীত মনে পড়ল বর্তমানের দোহাইতে। ওই যে অনেক আগে, শিশির তখনো অসীম তবে টান আছে মাঝখানে। একবার শিল্প একাডেমিতে যাওয়ার সময়ে স্মরণ আঙুল তুলে বলেছিল, ‘দেখো, দেখো...’
ড্রেনের কাছে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে পেশাব করছিল। তা ছাড়া আরেকটা ঘটনা আছে না? ওই দুই বছর আগে, বাবার সাথে হাটে গিয়েছিল, কোনো কারণ নাই। ছাগল কেনার পর, বাবা ছিল না, কেউই আসলে ছাগলটার সাথে উপস্থিত ছিল না, স্মরণ ছাড়া। মনে নেই? ভিডিও ক্যামেরা অন করে ছাগলটার মুখ ধরে স্মরণ বলতে লাগল, ‘বল বল শিশির… বল… আরে বল…’।
ছাগল বিরক্ত হয়ে ডাকাডাকি করা ছাড়া করে নাই কিছু।
ছাগলটা পরে এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শিশির দুষ্টুমি আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করে। না হলে সব মনে হতো প্রাক্তন। প্রতিটি ফোঁটায় শিশিরকে ওর বাংলা মনে হতে লাগল, মেয়েটা যে ‘বাংলা’ আগে বোঝা উচিত ছিল।
ও ফোন দিল শিশিরকে।
‘স্মরণ? কই তুমি? বাসায় যাও নাই?’
‘না, গাড়ি পাই না।’
‘প্লিজ, তাড়াতাড়ি বাসায় যাও। আমার অনেক ভয় লাগছে। আমাদের বাসার সামনেই দুইবার অ্যাকসিডেন্ট হলো।’
স্মরণের গলা ধরে গেল। বুক কাঁপছে, কিন্তু আসল ভয় ওসব না।
‘শিশির।’
‘বলো।’
‘আমার বাবা-মা একদিন মারা যাবেন।’
ফোন কেটে গেল। শিশিরের আজকে জন্মদিন ছিল।
সমাপ্তি



আপনার মন্তব্য প্রদান করুন